আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে-- শুরুর নাই কোন শেষ
আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে-- শুরুর নাই কোন শেষ
ভাবুক প্রকৃতি প্রতি মুহূর্তেই নতুন নতুন ভাবনার জন্ম দেয়, দিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। মানুষ প্রকৃতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে বসবাস করে সুতরাং প্রকৃতি বিচ্ছিন্ন হয়ে কখনো সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে জীবন-যাপন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। প্রকৃতি মানুষকে ভাবনার যোগান দেবে ঠিক যেমন করে সে দুধে-ভাতে লালন পালন করে থাকে ঠিক তেমনি করেই। কিন্তু কখনো কখনো প্রকৃতির রুদ্ররোষে আমাদেরকে পড়তে হয়। আমরা প্রকৃতির উপর যেসব অত্যাচার করছি এ অত্যাচারের ফলাফল প্রকৃতি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদেরকে দেয় না কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বিরূপ প্রকৃতি একসময় আমাদের উপরে খড়গ হস্ত হয়ে ওঠে এবং সে তার প্রতিশোধ গ্রহণ করে। মানুষ সবসময় ভাবে এক কিন্তু ঘটতে দেখা যাচ্ছে আরেক ভিন্ন। এর কারণ হচ্ছে প্রকৃতির সাথে মানুষের যে আদিম সম্পর্ক, যে সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত খাদ্য সংস্থান এবং বাসস্থানের জন্য নির্বাচিত স্থান নির্ধারণের জন্য; এ সমস্তই আমরা প্রকৃতির উদারহস্তে দানে পেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা তার অপব্যাবহার করতে থাকি বছরের-পর-বছর দিনের পর দিন ধরে এবং একসময় প্রকৃতি তার প্রতিশোধ গ্রহণ করে।হঠাৎ প্রকৃতির উপরে আমাদের সীমাহীন নির্ভরতা হঠাৎ করে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়ে থাকে ।বর্তমান সময়ে গ্রীন হাউস ইফেক্ট এর ফলাফল আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে অথচ প্রায় 25- 30 বছর আগে বিজ্ঞানীরা এই বিষয়টি ভবিষ্যৎবাণী করে রেখেছিল। অথচ কোন রাষ্ট্র কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক মহল থেকে কোন ধরনের সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য। প্রকৃতির উপরে অনাচার বন্ধ করতে কোথাও থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই।
বর্তমান যুগের মানুষ ধন-সম্পদের অহমিকা বোধ, এবং ধন সম্পদ আহরণের জন্য, সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য জীবনটাকে উৎসর্গ করে দেয়। এই প্রক্রিয়ার শুরু হয় সমাজ থেকে তারপর রাষ্ট্র কিংবা পারিবারিক ভাবে এই অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়।এক দুর্বিষহ পরিণতি সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে সুশাসনের অভাবে রাষ্ট্র নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদেরকে সুযোগ দিয়ে থাকে এবং পদমর্যাদাসম্পন্ন এসব লোক তখন শুধুমাত্র নিজেদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধির কাজেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য তাদের কোন মাথা ব্যথা থাকে না কিংবা তারা হয়তো বুঝতেই পারে না যে বিশাল সংখ্যক দরিদ্র লোকদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে কিভাবে পরিবর্তন আনা যায় এবং অর্থনৈতিক অবস্থার শুভ সূচনা কিভাবে করা সম্ভব। উন্নত জীবনযাপনের ইচ্ছা একটি স্বাধীন ও সুস্থ জাতির লক্ষণ।উন্নয়ন স্পৃহা না থাকলে মানুষ আসলে উন্নতি করতে পারে না, অর্থনৈতিক মুক্তি কোনক্রমে সম্ভবপর হয়ে ওঠে না।একটি শান্ত গ্রামীণ জীবন ধীরে ধীরে একটা পরিবর্তন লাভ করে। একটি উন্নত রাষ্ট্রের মধ্যে গ্রামীণ জীবন স্বভাবতই পরিবর্তিত হতে থাকে। মানুষজনের অর্থনৈতিক অবস্থার পূর্বাপর চিত্রটি চারিদিকে ফুটে ওঠে।কেননা এক দশক পরে যে কোন অঞ্চলের গ্রামীণ জীবন আর আগের মত থাকে না। অর্থনীতির মাপকাঠিতে সেখানে নানা দিকেই শহরের উন্নত চালচিত্রের ছাপ পাওয়া যায় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেদের জীবন যাত্রার মান শহরের জীবন যাত্রার কাছাকাছি পৌছে যায়। বহু দেশে বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় গ্রামীণ জীবন এবং শহরের জীবনের পার্থক্য খুবই কম সেখানে বরং শহরের চেয়েও গ্রামীণ জীবনের অর্থনীতি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।
কোন কোন অঞ্চলে বহু যুগ ধরে সমাজ সংস্কারকদের আগমন ঘটেছে। এই সমাজ সংস্কারক এরা যখন নিজেদের সমাজব্যবস্থার উপরে কোন পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছেন বা তাদের কোনো রকমের চাহিদা ছিল সমাজের কাছে এবং সেসব চাহিদাগুলোকে তারা সাধারণ মানব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ভেবে বাস্তবায়িত করতে চিন্তা করেছিলেন তাদের সেই চিন্তা ও তার প্রচার প্রসারের ফলশ্রুতিতে সমাজের মধ্যে কিছু কিছু পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। অত্র অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সমাজ সংস্কারকদের আগমন ঘটেছে বা যারা জন্মেছেন সেই সমাজ সংস্কারকের প্রত্যেকেই ধর্মীয় দিক থেকে অনেক উচ্চ স্তরের মানুষ ছিলেন। তারা নিজেরাও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করতেন এবং তাদের আওতাভুক্ত গণমানুষকে ধর্মীয় শিক্ষা দীক্ষা দিতে থাকতেন। এটি একটি বিশেষ ব্যবস্থা, কারণ ধর্ম শিক্ষা মানব জীবনের একটি প্রধান পরিচালক। সমাজের যে মৌলিক কাঠামো সেটা ধর্মীয় শিক্ষা দ্বারা সুবিন্যস্ত হয়ে পরে এবং অতঃপর স্থিতিশীল উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজ বাস্তবতাকে ধরে রাখে। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে স্তরে এসব সমাজ সংস্কারকদের জীবনাচার এবং তাদের প্রচার করা শিক্ষাকে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন এবং ধারণ করা হয়ে থাকে। নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের প্রথম শিক্ষা বা প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা অর্জনের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়। কেননা নৈতিক শিক্ষার যদি মানুষের মনের গভীরে প্রোথিত না হয় তাহলে তার জীবন আচার স্বাভাবিকভাবে অসামাজিক আচরণের সাথেই বেশি সম্পৃক্ত থাকবে। হয়তো সামাজিকভাবে সে বাধ্য থাকবে ভালো হয়ে চলতে, কিন্তু নৈতিক শিক্ষার প্রতি তার শ্রদ্ধার অভাবে সে আদতে একজন ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত হতে পারবে না। সে কারণে নৈতিক শিক্ষা অত্যন্ত জরুরী।যে সমাজে নৈতিক শিক্ষার বড়ই অভাব সে সমাজটি ভয়াবহ ভীতির রাজ্যে পরিণত হয় বা তাদেরকে ত্রাস সন্ত্রাসের মাধ্যমে শাসন করা সম্ভব হয়। নীতি-নৈতিকতা মানুষের মনের সুখ ও শান্তির জন্যও যথেষ্ট প্রয়োজনীয়। কারণ বলা হয়ে থাকে যে 'বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর'। অবশ্য আধুনিক যুগ কিছুটা কপটতার মাধ্যমে তার চাহিদার সাথে অনৈতিকতার সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে এবং একটা কম্প্রোমাইজ করে ফেলেছে। এই পৃথিবীতে এমন দর্শনের অভাব নাই এবং এই ধরনের কিছু কিছু দার্শনিকও পৃথিবীতে উদাহরণস্বরূপ রয়েছে অনেক।
অর্থাৎ প্রথমদিকে সমাজ সংস্কার এবং পরবর্তীতে সমাজের উন্নত চাহিদাগুলোর যোগানের জন্য এবং এ ধারণা গুলির সাথে কম্প্রোমাইজ করার জন্য অনৈতিক চুক্তি ও অনৈতিকতার সাথে একটা চুক্তি করা হয়ে থাকে। এমনটাই আরকি। স্বাভাবিকভাবেই কিছু নিম্নস্তরের সমাজ বা যেসকল সমাজ নিজেদের জ্ঞানের আধার কে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে শেখে নাই তারাই এসব অনৈতিক চুক্তি কিংবা অনৈতিকভাবে সমাজের চাহিদাগুলো মেটানোর এই পদ্ধতিকে মেনে নিয়ে থাকে। সাধারণত তাদের মধ্যে ভীতি এবং ত্রাসের সঞ্চার হতে দেখা যায়। কারণ নীতি ও মূল্যবোধ কি জিনিস তারা সেটা বুঝতে না পারলেও তাদের মনের গহীনে তাদের যে বর্তমান সক্ষমতা সেটা এবং সঠিক পথের প্রত্যাশা করা এ দুয়ের মধ্যে যে পার্থক্য টুকরো হয়েছে সেটার জন্য সবসময় একটা ভয় কাজ করে থাকে। আর এই ভয় থেকে উত্তরণের জন্য তারা কর্মপদ্ধতি কেই প্রধান উপকরণ হিসেবে বেছে নেয়। সে কর্মপদ্ধতির মধ্যে প্রাথমিক বিশ্লেষণে যেটা উঠে আসে সেটা হল তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কিংবা পারিপার্শ্বিক জীবনাচারের মধ্যে যে অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া তখন চলমান রয়েছে তার সাথে একাত্ম বোধ হওয়া। অর্থাৎ কিনা আধুনিক যুগের পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার সাথে তাদের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকেই যায়। এটা খুবই মারাত্মক অবস্থা কারণ একটি পুঁজিবাদী সমাজে যেখানে নীতি-নৈতিকতার কোন বালাই নাই সেখানেই ভয় এবং সন্ত্রাস বাসা বাঁধবে এতে কোন সন্দেহ নেই এই ভয় এবং সন্ত্রাসের উৎস কি সেটাও কেউ খুঁজতে চেষ্টা করবে না। কারণ মৌলিক চিন্তাতেই এদের মধ্যে গলদ রয়েছে। যেসব সমাজ সংস্কারকরা এত দীর্ঘ সময় ধরে নীতি এবং আদর্শ শিক্ষা দিয়ে গেছেন এদের সমাজে তার কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট নাই।
সমাজ সংস্কারকরা ছিলেন নীতি আদর্শ এবং সত্যের ধারক ও বাহক । আর অন্যদিকে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা যেটি বর্তমানের উপহার বা আধুনিক বৈজ্ঞানিক যুগের উপহার সেটি হচ্ছে ও অনৈতিকতা এবং আদর্শহীনতার এক একটি উদাহরণ। সুতরাং কোনটির মাধ্যমে যে কোনটির প্রচলন হয়েছে আজ এটা বুঝে উঠা খুবই কঠিন কাজ, ঠিক যেমন 'ডিম আগে না মুরগি আগে' এটা সহজে উত্তর করা যায় না ঠিক তেমনই। হয়তো অনেকে বলে থাকেন যে পুঁজিবাদী সমাজে একটি ভেরিয়েন্ট সমাজ বা বহুমুখী সমাজ এটা তো সত্য। কিন্তু বহুমুখীতার পিছনে বেআইনি কর্মকাণ্ড বহুমুখিতা হয়েছে এবং ফলত আইনের বাস্তবায়নের জন্য কিছু বিশেষ বিশেষ ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হয়েছে। অর্থাৎ আইন এবং বেয়াইনের মধ্যে একটা চরম সাংঘর্ষিক অবস্থান যখন-তখন যত্রতত্র দেখা যেতে পারে। এই বিশেষ অবস্থানের জন্য সমাজ সংস্কারক দের শিক্ষা কতটা দায়ী এবং পাশ্চাত্যের প্রভাব এবং মৌলিক চাহিদা কতটা দায়ী সেটা এখন ভেবে দেখা উচিত।
পুঁজিবাদী সমাজ শুধুমাত্র যে সমালোচনায় জন্য দায়ী তা নয় পুঁজিবাদী সমাজ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রকমের শোষক শ্রেণী ও বটে। এদের শোষণের মাত্রা প্রাথমিক পর্যায়ে পাশ্চাত্য সমাজ থেকে শুরু হলেও বর্তমানে সেটা প্রত্যেক রাষ্ট্রের গঠনতন্ত্রের ভিতরে কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। এটা একটি ভয়াবহ অবস্থা এবং এসব ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় যে মানবতার চরম অপমান ও অবমাননা করতে থাকে(?)। কারণ শ্রেণীগত স্বার্থ রক্ষার জন্য কিছু কিছু লোক এবং তাদের প্রক্রিয়াধীন কর্মকাণ্ড সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে। ফলে সাধারণ মানুষের চাহিদা গুলি আর কখনোই পূরণ করা হয়ে থাকে না। মানুষের বাঁচার লড়াই চলতেই থাকে এবং সাধারণ মানুষকে তারা দাসের থেকেও নিচে ক্রীতদাস পরিণত করে ফেলে। কারন এ ধরনের আধুনিক ক্রীতদাসদের দ্বারা আরো বহুমুখী কর্মকাণ্ডের সূচনা করা সম্ভব। এহেন বাস্তবতায় মানবতা এখানে বহু আগেই পরাভব মেনে নিয়েছে(?)।
বহুকাল আগে যখন নীতি ও আদর্শের ধারকরা তাদের শিক্ষা ও আদর্শ প্রচার করে গিয়েছেন এখন সেটা প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে কেননা সমাজের নিচু স্তরের মানুষদেরকে কাছে গিয়ে তাদের দারিদ্র্যের সাথে বর্তমান সমাজের তুলনা করে তাদেরকে কর্মপদ্ধতি বোঝানো এবং হুঁশিয়ার করে দিতে পারা এখনকার যুগে প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। এর চেয়ে দেশের যারা নীতিনির্ধারক তারাও ভালো বোঝেন এবং পুঁজিবাদীরাও নেপথ্যে মায়াকান্না কাঁদতে থাকে এবং চোখের জল ফেলতে থাকে কিন্তু সমাজের মানুষদের চেতনা তৈরি হয় না। শিল্প এবং সংস্কৃতির মধ্যে এর চর্চার মাধ্যমে এই পরিস্থিতির একটি সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। অথচ এখন পর্যন্ত সমাজের নিচু স্তরের লোকগুলির বোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায় না। এদের শিক্ষা-দীক্ষাই বা কি অথবা কোন বিষয়টিকে তারা তাদের গড্ডালিকা প্রবাহের দারা জলাঞ্জলি দিচ্ছে সেটাও তারা বুঝতে অক্ষম। অর্থাৎ কিনা এখানে একটি ত্রাস বা সন্ত্রাসের প্রভাব থেকে থাকবে।
যেখানে নীতি নৈতিকতার অভাব থাকবে সেখানে ত্রাস বা সন্ত্রাস মনে বাসা বাঁধতে পারে। কারণ সকলের মননশীলতা একরকম নয় মানুষ চিন্তা করে আধুনিকতার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য এবং এই আধুনিকতা আমাদের এই যুগে সম্পূর্ণ রূপে পাশ্চাত্যের তল্পিবাহক হয়ে চলছে। যেন খাওয়া-পরা থাকা অর্থাৎ অন্ন বস্ত্র বাসস্থান এই তিনটি মৌলিক সুযোগ সুবিধা ছাড়াও যেন পাশ্চাত্যের কাছে অনেক কিছু পাওয়ার আছে এরকম । এটা তো এখন স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে এরকম পরিস্থিতির কারণ হচ্ছে অশিক্ষা কিংবা কুশিক্ষা এবং আসল কারণ হচ্ছে পাশ্চাত্য বাদী পুঁজিবাদী সমাজ। বর্তমান সময়টা হচ্ছে কম্পিউটারের যুগ টেলিভিশনের রাজত্ব এখন আর তেমন একটা নাই সকলেই এখন ইন্টারনেটের দুনিয়ায় বাধা এরকম একটা যখন সভ্যতা এগিয়ে গেছে তখন দেশে দেশে অনিশ্চয়তার অবস্থা বিরাজমান এর কি কারণ হতে পারে নিশ্চয়ই সমাজব্যবস্থার ভিতরে কোন একটা গোমর আছে বা একটা 'চিচিং ফাঁক' রয়ে গেছে। আমার ধারণায় কেউ-না-কেউ এসব জানেন। কিন্তু সব জেনেও যারা নিশ্চুপ আছেন তাদের ভূমিকা এখানে কতটুকু এবং সেটা কি ভালো না খারাপ সেটা ভবিষ্যতেই বলবে। অবশ্যই নীতিহীনতার একটা মাপকাঠি এবং সীমা ও রয়েছে। সীমার বাইরের যেসব নীতিহীনতা এই নিশ্চুপ পদ্ধতি তার মধ্যে পড়ে কিনা আমার জানা নেই।
মানবজন্মের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা করতে পারা একটি বিরাট বড় ব্যাপার। আজকাল এটির আর প্রচলন নাই কারন মানুষ এখন জন্মের বিষয়ে তেমন একটা ব্যাখ্যা দাবি করে না সকলেই চায় অর্থনৈতিক মুক্তি কিংবা শৃঙ্খলমুক্তি শৃঙ্খল মুক্তির দিনও অনেকটা শেষের দিকে এখন যারা স্বেচ্ছায় শৃঙ্খলিত হয়ে পড়ে সেসব ক্রীতদাস ছাড়া আর বেশিরভাগ লোকেই বলতে গেলে এক প্রকার স্বাধীন হয়েছে উপনিবেশিকতা স্বাধীনতা হোক কিংবা পুঁজিবাদী প্রক্রিয়ার দাসত্বের স্বাধীনতাই হোক।স্বভাবতই যেসব সামাজিক অপরাধ প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে তার মাধ্যমে আমরা মানব জন্মের সার্থকতা কিংবা ব্যর্থতার কিছুটা ছোঁয়া পেতে পারি। এছাড়া এই প্রাচীন জ্ঞানের বাহারি চর্চা এখন আর নাই বললেই চলে বরং আইনের বাস্তবতায় কিভাবে মানুষ এযুগে ঘুরেফিরে চলতে পারবে সেটাই যেন মানুষ বেশি ভাবছে। অর্থাৎ আজকের নীতিনির্ধারণীরা, সেই প্রাচীন রীতি নীতির ঋষি ও মনীষীদের উত্তরাধিকারীরা এবং পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার একচোখা নীতির লোকগুলি ডিম আগে না মুরগি আগে এ নিয়ে এখন একটি কাতারে। সেটা হচ্ছে যে, এই যুগে কিভাবে মানুষ ঘুরেফিরে চলতে পারবে আইনের বাস্তবতায়। অর্থাৎ পার্লামেন্টকে বলা হচ্ছে যে আইনসভা বা আইন প্রণেতাদের সভা।
আইনের কিছু ফাঁক রয়েছে। মানুষ যখন আইন প্রয়োগ করতে যায় তখন তাকে প্রমাণ করতে হবে যে ঘটনাটি আসলেই ঘটেছে কিনা। সুতরাং সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বাদে মারপিট ইত্যাদি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে আইনের প্রয়োগ হয় না বললেই চলে। অর্থাৎ খুন-খারাবি, নিত্তনৈমিত্তিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি বাদে অন্যান্য ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ যে কিভাবে সম্ভব সেটা অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের বোধগম্যতার বাইরে।সুতরাং আরো একবার গণমানুষকে ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে সুবিধা পাওয়ার সেই পুরাতন পাপের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এরা আসলে জ্ঞানপাপী এবং ধনিক শ্রেণীই। নিজেদের স্বার্থ ছাড়া এরা অন্য কোনো কিছুই বুঝতে চায় না। তাই তারা কখনোই নিজের আখের গোছানো ছাড়া নীতিরও ধার ধারে না। এরা আইনসভায় বসেও বেআইনি কাজ কর্ম করতে ভয় পায় না। সৃষ্টিকর্তার প্রকৃতিতে এরা নির্ভয় অংশটুকু এখন এ যুগে যেন শুধুমাত্র তাদের জন্যই বরাদ্দকৃত এটা বুঝে গেছে। জায়গা জমি, রাজ্য, দেশ মহাদেশ তাদের দখলে যাওয়ার পরেও এখন অর্থনীতিও তাদের কব্জায়। আর অন্যান্য লোকজন যেন পশুর কাতারে। ভয় এবং ভীতির ভিতর তারা বসবাস করছে, যেন এই বসবাস করার কারণে এরা একেকটা অপরাধী।
নীতি এবং আদর্শের কাছেও মানুষ একপ্রকার বন্দি! সময় হয়েছে অযথা ভাবনার হাত থেকে আজকের উত্তরণের। মানুষের সত্যকে মানুষের হাতে তুলে দেবার এটাই হয়তো প্রকৃষ্ট সময়। জীবনের উদাহরণকে উৎকৃষ্ট আচরণের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার দিন এসে গেছে।( হয়তো/ হয়ত) মানুষকে তেগী হতে শিখতে হবে, অপরাজেয় এবং ভোগবাদী বিপ্লবী হতে নয়। মানুষকে অতঃপর বুঝতে হবে সঠিক উন্নয়নের রাস্তা কোনটি কারণ পৃথিবী তার ঘূর্ণাবর্তে অনেক বার ঘুরেই গেছে! মানুষের অচেতন অবস্থায় মানুষ দীর্ঘ দিন কাটিয়ে ফেলেছে! এখন প্রত্যেকটি ঘূর্ণন কে সেকেন্ড এর মানে বিচার করতে হবে এবং প্রত্যেকটি ঘুমিয়ে থাকা মানুষকে মহা জাগরণের মহা ছায়া তলে আসতে হবে। তাহলেই বুঝা যাবে আমাদের প্রকৃত পরিচয়, মানবসত্তার প্রকৃত পরিচয় কি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন